গত রোববার বিটকয়েনের দাম বেড়ে আবারো ৬৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে এর আগে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটলেও দ্রুতই তা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। খবর স্ট্রেইটস টাইমস।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার খবরের পর বিটকয়েনের দাম সাময়িকভাবে কমে প্রায় ৬৩ হাজার ডলারে নেমে আসে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর পরই বাজার পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিটকয়েনের দাম সর্বনিম্ন ৬৩ হাজার ১৭৬ ডলার থেকে এক লাফে ৬৭ হাজার থেকে ৬৮ হাজার ডলারের ঘরে চলে আসে। এ আকস্মিক উত্থানের ফলে বিটকয়েনের বাজার মূলধন প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলার বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রোববার সাধারণত বাজারে লেনদেন কম থাকে, যা দামের এ অস্বাভাবিক ওঠানামায় ভূমিকা রেখেছে। এ আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে ব্যাপক লিকুইডেশন বা সম্পদ নগদায়ন হয়েছে। কয়েনগ্লাসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৯ কোটি ডলার সমমূল্যের পজিশন বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে বিটকয়েনের অংশ ছিল ১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং ইথেরিয়ামের ১৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।
বিটকয়েনের পাশাপাশি ইথেরিয়াম, এক্সআরপি ও সোলানার মতো অন্যান্য প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোও অস্থিরতার শিকার হয়েছিল। তবে দিনের শেষ দিকে এগুলোও নিজেদের ক্ষতি অনেকটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। বর্তমানে এ অল্টকয়েনগুলোর দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য যে ২০২৬ সালের শুরুতে বিটকয়েনের দাম ছিল প্রায় ৮৭ হাজার ডলার। গত বছরের অক্টোবরে এটি সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৬ হাজার ডলার ছাড়িয়েছিল। গত এক মাসে ডিজিটাল এ মুদ্রার মূল্য প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের সময়ও ক্রিপ্টো বাজারে এমন বড় ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল।